
বর্বর হামলায় নিহত আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি
বাসিন্দাদের ফের গাজা শহর ছাড়ার নির্দেশ ইসরাইলের


জনতা ডেস্ক
আবারও গাজা থেকে সব বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের ভবনে হামলা জোরদার করায় তাদের সরে যেতে বলা হয়। গত বুধবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, সকালে লিফলেট ফেলে ফিলিস্তিনিদের গাজা শহর ছেড়ে দক্ষিণে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইল। ‘দক্ষিণের দেইর এল-বালাহ এবং আজ-জাওয়াইদাতে এলাকা নিরাপদ দাবি করে সেখানে ফিলিস্তিনিদের পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সেনাবাহিনী। এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলি বর্বর হামলায় আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছে গেছে প্রায় ৩৮ হাজার ৩০০ জনে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান হামলায় আরও ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ হাজার ২৯৫ জনে পৌঁছেছে বলে বুধবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত ৮৮ হাজার ২৪১ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর করা চারটি ‘গণহত্যায়’ ৫২ জন নিহত এবং আরও ২০৮ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরাইল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে গাজার খান ইউনিসের একটি স্কুলের বাইরে শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে ২৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার পরদিন ফিলিস্তিনিদের আবারও সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজার চারটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব স্কুলের আশ্রয় শিবিরে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন। এছাড়া গাজার উত্তরাঞ্চলে অন্তত তিনটি প্রধান হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছে তেল আবিব। মূলত ইসরাইলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ